বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। এ সময় উদ্বেগ বাড়ছে যে তার সাবেক মিত্র, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে পারেন।শাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ এমন সময় এলো যখন হাসিনা রয়টার্সকে বলেছেন তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের মামলা রয়েছে। সেই আন্দোলনের মুখেই তার সরকারের পতন হয়েছিল।এরপর থেকে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-BNP-র নেতারা শাহাবুদ্দিনের উপর পদত্যাগের চাপ দিচ্ছিলেন বলে BBC Bangla-কে সূত্র জানিয়েছে।রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, শাহাবুদ্দিন শুক্রবার বিকেলে তার পদত্যাগপত্রে সই করেছেন। চিঠিতে তিনি অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে পদ ছাড়ার কারণ দেখিয়েছেন।পদত্যাগপত্রটি সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ-এর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে থাকা স্পিকার তার সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, সংসদকে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তার অনেক মিত্রকেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তার সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করা শীর্ষস্থানীয় আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তারা, এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিরা। শাহাবুদ্দিন ছিলেন হাতে গোনা কয়েকজন মিত্রের একজন যিনি পদে বহাল ছিলেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পরও তিনি দায়িত্ব পালন করে গেছেন। এমনকি ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-BNP বিশাল জয় পাওয়ার পরও তিনি পদে ছিলেন।কিন্তু ২০২৮ সাল পর্যন্ত যার মেয়াদ থাকার কথা ছিল, সেই শাহাবুদ্দিন গত ডিসেম্বরে রয়টার্সকে বলেন যে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়তে “আগ্রহী”। তিনি বলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে “হেনস্তা” করেছে। বাংলাদেশের কনস্যুলেট ও দূতাবাসগুলো থেকে হঠাৎ করে তার ছবি সরিয়ে ফেলার কথা উল্লেখ করেন তিনি।তখন তিনি বলেছিলেন, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন এবং পরবর্তী সরকার তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণাএই মাসের শুরুতে রয়টার্সের সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, তিনি ও তার মিত্ররা ভারত থেকে নির্বাসন কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরবেন এবং আদালতের মুখোমুখি হবেন।
গত বছর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে “প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের অনুমতি দেওয়ার” অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ওই অস্থিরতায় অন্তত ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। এই আন্দোলনের মুখেই শেষ পর্যন্ত হাসিনা দেশ ছেড়ে পালান।আদালত তার অনুপস্থিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। দেশত্যাগের পরের কয়েক মাসে তার দল আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং দলের অনেক
নেতাকে জেলে পাঠানো হয়েছে।
এই মাসের শুর দিকে রয়টার্সের সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন,
“আমার দলের নেতা-কর্মীদের উপর প্রচণ্ড দমন-পীড়ন চলছে।”
“মৃত্যু যদি আসতেই হয়, আমি চাই তা আমার নিজের মাটিতেই আসুক। যেখানে আমার বাবা-মা শুয়ে আছেন, যেখানে তাদের রক্ত ঝরেছে।”
Leave a Reply