1. admin@pdtv24.com : admin :
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন

ঘাসফড়িং – প্রকৃতির বন্ধু না কৃষকের শত্রু?

মো. রিয়াজ
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
  • ২৫৬ বার পঠিত

১. ভূমিকা
ঘাসফড়িং বাংলাদেশের অতি পরিচিত একটি পোকা। ধানক্ষেত, বাগান ও ঘাসের জমিতে একে প্রায়ই দেখা যায়। সবুজ রঙের কারণে এরা সহজে পরিবেশের সাথে মিশে যেতে পারে। তবে এই ছোট পোকাটির ভালো-খারাপ দুই দিকই রয়েছে।

২. সাধারণ বিবরণ ছবিতে দেখা পোকাটি ঘাসফড়িং। বৈজ্ঞানিক নাম: Oxya hyla / Schistocerca গোত্রআকার: ৪-৬ সেমি লম্বারং: উজ্জ্বল সবুজ, মাথায় হলুদ দাগ ও পেছনের পা লালচে-বাদামিবৈশিষ্ট্য: শক্তিশালী পেছনের পা দিয়ে লাফাতে পারে, ছোট ডানা দিয়ে উড়তে পারে
খাদ্যাভ্যাস: সম্পূর্ণ তৃণভোজীবাসস্থান: ধানক্ষেত, গমক্ষেত, সবজি বাগান ও ঘাসযুক্ত এলাকা

৩. ইতিবাচক দিক / উপকারিতা
খাদ্যচক্র রক্ষা: পাখি, ব্যাঙ, টিকটিকি ও অন্যান্য পোকার প্রধান খাবার। ফলে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখে।
জৈব সার: এর মল মাটির উর্বরতা বাড়ায়।
পুষ্টির উৎস: আফ্রিকা ও এশিয়ার অনেক দেশে ভেজে খাওয়া হয়। এতে প্রচুর প্রোটিন ও ভিটামিন আছে।
গবেষণা: লাফ ও উড়ার কৌশল রোবোটিক্স ও বায়োমেকানিক্স গবেষণায় ব্যবহৃত হয়।

৪. নেতিবাচক দিক / ক্ষতিকর দিক
ফসলের ক্ষতি: ধান, গম, ভুট্টা, সবজি ও ঘাসের পাতা খেয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে।
পঙ্গপালের ঝুঁকি: অনুকূল পরিবেশে সংখ্যা বেড়ে গেলে দল বেঁধে আক্রমণ করে। তখন এক রাতেই পুরো মাঠ ফাঁকা হয়ে যায়।
অর্থনৈতিক ক্ষতি: কৃষকদের কীটনাশকের পেছনে অতিরিক্ত খরচ করতে হয়।
উৎপাদন হ্রাস: গাছের পাতা খেয়ে ফেলায় ফলন কমে যায়।

৫. উপসংহার ও সুপারিশ
ঘাসফড়িং প্রকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অল্প সংখ্যায় থাকলে এরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কৃষির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
সুপারিশ:
জৈব উপায়ে নিয়ন্ত্রণ:
পাখি ও উপকারী পোকা সংরক্ষণ করাপ্রয়োজনে নির্দিষ্ট কীটনাশক ব্যবহার নিয়মিত ক্ষেত পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সর্বোপরি, ঘাসফড়িংকে নিধন নয় বরং নিয়ন্ত্রণ করাই টেকসই সমাধান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2026
Design By Raytahost