১. ভূমিকা
ঘাসফড়িং বাংলাদেশের অতি পরিচিত একটি পোকা। ধানক্ষেত, বাগান ও ঘাসের জমিতে একে প্রায়ই দেখা যায়। সবুজ রঙের কারণে এরা সহজে পরিবেশের সাথে মিশে যেতে পারে। তবে এই ছোট পোকাটির ভালো-খারাপ দুই দিকই রয়েছে।
২. সাধারণ বিবরণ ছবিতে দেখা পোকাটি ঘাসফড়িং। বৈজ্ঞানিক নাম: Oxya hyla / Schistocerca গোত্রআকার: ৪-৬ সেমি লম্বারং: উজ্জ্বল সবুজ, মাথায় হলুদ দাগ ও পেছনের পা লালচে-বাদামিবৈশিষ্ট্য: শক্তিশালী পেছনের পা দিয়ে লাফাতে পারে, ছোট ডানা দিয়ে উড়তে পারে
খাদ্যাভ্যাস: সম্পূর্ণ তৃণভোজীবাসস্থান: ধানক্ষেত, গমক্ষেত, সবজি বাগান ও ঘাসযুক্ত এলাকা
৩. ইতিবাচক দিক / উপকারিতা
খাদ্যচক্র রক্ষা: পাখি, ব্যাঙ, টিকটিকি ও অন্যান্য পোকার প্রধান খাবার। ফলে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখে।
জৈব সার: এর মল মাটির উর্বরতা বাড়ায়।
পুষ্টির উৎস: আফ্রিকা ও এশিয়ার অনেক দেশে ভেজে খাওয়া হয়। এতে প্রচুর প্রোটিন ও ভিটামিন আছে।
গবেষণা: লাফ ও উড়ার কৌশল রোবোটিক্স ও বায়োমেকানিক্স গবেষণায় ব্যবহৃত হয়।
৪. নেতিবাচক দিক / ক্ষতিকর দিক
ফসলের ক্ষতি: ধান, গম, ভুট্টা, সবজি ও ঘাসের পাতা খেয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে।
পঙ্গপালের ঝুঁকি: অনুকূল পরিবেশে সংখ্যা বেড়ে গেলে দল বেঁধে আক্রমণ করে। তখন এক রাতেই পুরো মাঠ ফাঁকা হয়ে যায়।
অর্থনৈতিক ক্ষতি: কৃষকদের কীটনাশকের পেছনে অতিরিক্ত খরচ করতে হয়।
উৎপাদন হ্রাস: গাছের পাতা খেয়ে ফেলায় ফলন কমে যায়।
৫. উপসংহার ও সুপারিশ
ঘাসফড়িং প্রকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অল্প সংখ্যায় থাকলে এরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কৃষির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
সুপারিশ:
জৈব উপায়ে নিয়ন্ত্রণ: পাখি ও উপকারী পোকা সংরক্ষণ করাপ্রয়োজনে নির্দিষ্ট কীটনাশক ব্যবহার নিয়মিত ক্ষেত পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সর্বোপরি, ঘাসফড়িংকে নিধন নয় বরং নিয়ন্ত্রণ করাই টেকসই সমাধান।

Leave a Reply