1. admin@pdtv24.com : admin :
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ন

সরকারি চাকরিতে অবসর ৬৫ এবং যোগদান ৩৫ বছরে উন্নীত করাসহ আমলাতন্ত্র সুগঠনে এনএনপির ১৫ দফা দাবী

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯১০ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিনিধি: জাতীয় প্রেসক্লাব জহুরুল হক চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্রগঠণে আমলাতন্ত্র সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর সরকারের নিকট সাবেক ২০ দলীয় জোটভুক্ত বাংলাদেশ লেবার পার্টির শীর্ষনেতা ও ন্যাশনাল লেবার পার্টি-এনএলপি`র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ জিয়া ১৫ দফা ঘোষণা করেন। দফা গুলি হচ্ছে :

১। জীবন ও জগৎ সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞ ও ভারিক্কী ব্যক্তি, সরকারি গুরু দায়িত্ব পালনের মত মন ও মননের দৃঢ়তার দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্বকে সরকারি চাকুরীতে আনার প্রয়োজনে চাকরিতে যোগদানের বয়সসীমা ৩৫ বছর উন্নীত করাসহ দীর্ঘ চাকুরী জীবনের অভিজ্ঞতা, মনন ও মেধার সমন্বয়ে পরিপূর্ণ যোগ্য, রাষ্ট্রীয় কাজে অভিজ্ঞ দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্বকে দ্রুত বাড়ি পাঠানোর মধ্য দিয়ে যোগ্য লোকদেরকে বেকার করার প্রবণতা থেকে বের করে তাদের যোগ্যতম মেধা দ্বারা রাষ্ট্রের কল্যাণে চাকুরিরত রাখার প্রয়োজনে, এছাড়া বাংলাদেশের গড় আয়ু বৃদ্ধির কারণে চাকুরীর বয়সসীমা ৩৫ বছরে উন্নীত করতে হবে।

০২। মেরিটোক্রেসি ব্যুরোক্রেসি তথা মেধাভিত্তিক সৎ আমলা তৈরীর মাধ্যমে রাষ্ট্র উন্নত করতে শতভাগ পরীক্ষার মাধ্যমে সকল আমলাদের পদোন্নতি দিতে হবে। সেই হিসেবে জবাবদিহিতামূলক সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড এস এস বি গঠন করতে হবে । কোন অফিসার কি কারণে পদোন্নতি পেলেন তা যেমন তিনি জানতে পারবেন
আবার কোন অফিসার কেন পদোন্নতি পেলেন না তার কারণও জানাতে এসএসবি বোর্ড বাধ্য থাকবে ।

০৩। সিনিয়র উপসচিব হতে যুগাসচিব এবং যুগ্মসচিব হতে অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতির ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শতভাগ পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে ।

০৪। ব্যাচ বাই ব্যাচ পদোন্নতি দিতে হবে। সিনিয়র ব্যাচের পদোন্নতি বঞ্চিত অফিসারদেরকে জুনিয়র ব্যাচের পদোন্নতি দেবার অসাংস্যপূর্ণ ও অপমানকর নিয়ম বাতিল করতে হবে। স্বতন্ত্র জিও তালিকায় একটি ব্যাচের অফিসারকে নুন্যতম ৬০% ভাগ পদোন্নতির কাঠামো নির্মাণ এবং যোগদানের সংখ্যার আনুপাতিক হারে পদোন্নতির সাম্যময় নিয়ম চালু করতে হবে।

ot । গ্রেড ৪ বেতন কাঠামোয় সিনিয়র উপসচিব পদবীর বিন্যাশ ও পদায়নের ন্যূনতম ৮০০ অধিক অথবা অনধিক
উইং বা দপ্তর তৈরী করতে হবে । মন্ত্রনালয় ও অধিশাখা সমূহে সিনিয়র উপসচিব পদায়ন কাঠামোয় দায়িত্ব পালনের ৩ বছর পর যুগ্মসচিব পদোন্নতির দৌড়ে পরীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে পদোন্নতির সুযোগ অবারিত করতে হবে ।

০৬। জেলা প্রশাসকগণকে উপসচিব পদ মর্যাদার গ্রেড-৫ হতে উন্নিত করে সিনিয়র উপসচিব তথা গ্রেড-৪ এর বেতন কাঠামো ও মর্যাদাগত বিন্যাশ ঘটাতে হবে ।

০৭। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিট্রেট পদে সিনিয়র সহকারী সচিব পদবীর
দায়িত্বশীলকে গ্রেড-৬ হতে উন্নিত করে গ্রেড-৫ এ পদায়ন করতে উপসচিব পদবীর অফিসারকে দায়িত্ব প্রদান
করতে হবে ।

০৮। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ও বিভাগীয় পরিচালক, স্থানীয় সরকার(ডিএলজি) কে গ্রেড-৩ এর বেতন কাঠামোর যুগ্মসচিব হতে উন্নীত করে গ্রেড-২ তে রুপায়ন করে অতিরিক্ত সচিব পদ মর্যাদার অফিসারকে দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে।

৯ । বিভাগীয় কমিশনারদেরকে গ্রেড-২ হতে উন্নিত করে গ্রেড-১ এ পদায়নের পর তাদেরকে সচিব পদোন্নতির জন্য
শতভাগ উপযুক্ততা নিশ্চিত করতে হবে।

১০। ফ্যাসিষ্ট আমলে বিলুপ্ত করা ইকোনোমিক ক্যাডারকে এডমিন ক্যাডার হতে আলাদা করে চাকুরীতে যোগদানের নিয়ম কাঠামোয় তাদের পূর্বের পদবী ও দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে । বিলুপ্ত ক্যাডারের অবশিষ্ট অফিসারগণ তাদের
পূর্বের পদবীতে দায়িত্ব পালন করে চাকরি সমাপ্ত করবেন এমন নিয়ম কাঠামো বাস্তবায়ন করতে হবে ।

১১ । সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ এমন কাঠামোতে সকল আমলাদের পদায়ন ও যোগদানের নিয়মের ভিত্তিতেই ক্যাডার নিশ্চিত করতে হবে । সেক্ষেত্রে যে বিষয়ে যার যোগ্যতা যেমন, পদোন্নতি ও পদায়ন হবে তেমন” শ্লোগান
ছড়িয়ে দিতে হবে ।

১২। কোন রাজনৈতিক সরকারের আমলে চাকুরীতে এসেছে তাতে ন্যারেটিভযুক্ত করে পদায়ন ও পদোন্নতি বঞ্চিত করার অনৈতিক নিয়ম বাতিল করতে হবে । পদোন্নতি ও পদায়ন এর ক্ষেত্রে সাম্য ও ন্যায়দণ্ডের ভিত্তি নির্মান করতে
হবে। আমলাদের কোন রং নেই। সরকার যেমন। আমলাপণ তেমন । কেননা চাকুরী বিধিটাই এমন সরকারী আমলাগণ রাজনৈতিক সরকারের আদেশ ও নিষেধ মানতে বাধ্য। সুতরাং আমলাদেরকে ন্যারেটিভমুক্ত করে পেশাদারিত্ব আনতে হবে।

১৩। সহকারী কমিশনার হতে সিনিয়র সহকারী সচিব পর্যন্ত ধারাবাহিক পদোন্নতির নিয়মের মত উপসচিব হতে সচিব পর্যন্ত ধারাবাহিক পদোন্নতির নিয়ম কাঠামো নির্মান করতে হবে । সেশনজটের মত পদোন্নতি বঞ্চনার জট পাকিয়ে আমলাতন্ত্রকে পতিহীন, নিশ্চলতা তৈরী করা যাবে না।

১৪ । নন ক্যাডার অফিসারদের সচিবালয়ের নামে কোন স্পেশাল ক্যাডার থাকতে পারবে না। মাঠ পর্যায় থেকে নন ক্যাডারের অফিসারদের মধ্য থেকে যোগ্যতা ভিত্তিক সচিবালয়ে পদায়নের সুযোগ অবারিত করতে হবে। আবার
সচিবালয় থেকে যোগ্যতা অর্জনের জন্য মাঠ প্রশাসনেও পদায়ন করার আইন ও বিধি রাখতে হবে। সচিবালয় আমার
বাপ দাদার তেজারতী এমন “সচিবালয় ফ্যাসিজম” নন ক্যাডার থেকে দূর করে সাম্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে ।

১৫ । সিটি কর্পোরেশনযুক্ত জেলাগুলোতে সিটি ম্যাজিস্ট্রেসী চালু করতে প্রতিটি থানায় থানা নির্বাহী অফিসার-টিএনও
অফিস করে সিটি ম্যাজিস্ট্রেসী বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনসেবার জন্য জনপ্রশাসন স্বীকৃতি আদারে জনতার জন্য জনকল্যাণ প্রতিপাদ্য বিনির্মাণ করতে হবে।
—
উল্লেখ্য ২০১২ সালের ২২ অক্টোবর বাংলাদেশ লেবার পার্টি থেকে একটি অংশ বেরিয়ে আব্দুল্লাহ জিয়া`র নেতৃত্বে ন্যাশনাল লেবার পার্টি -এনএলপি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর বিএনপি’র জোটে অংশগ্রহণের জন্য
২০১৪ সালের ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর সাথে জোট আলোচনা অংশ নেয় দলটি।

বিশেষ মহলের ইশারার কারণে একই সাথে দুইটি লেবার পার্টিকে ২০ দলীয় জোটে যোগদান করেনি সে সময়ের বিএনপির শীর্ষ মহল।

সম্প্রতি বাংলাদেশ লেবার পার্টি নিবন্ধন প্রাপ্তির পর ১১দলীয় জোটের শরিক হয়ে ত্রৈয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়।
সে সূত্রে ২০ দলে এখন লেবার পার্টি বের হয়ে যাওয়ার কারণে জোটে দলের সংখ্যা ১৯।

সুত্র বলছে, বিএনপির রাজনীতির সাথে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমল থেকেই লেবার পার্টি যুগপৎভাবে রাজনীতিতে যুক্ত ছিল।

সম্প্রতি আমলাতান্ত্রিক রিফর্ম নিয়ে ন্যাশনাল লেবার পার্টি এনএলপি ‘র নানামুখী প্রচারণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

২০ দলীয় জোটের সংখ্যা পূরণের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল লেবার পার্টির নানামুখী কর্মসূচি ও সাংগঠনিক বিস্তৃতি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট নেতাদের গুরুত্বের দাবি রাখে কিনা? ন্যাশনাল লেবার পার্টি এনএলপিকে ২০ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে দেখা যাবে কিনা এমন গুঢ় গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2026
Design By Raytahost