1. admin@pdtv24.com : admin :
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ন

৯ বছর প্রেষণে একই অফিসে কর্মরত। অন্যত্র পদায়নের জন্য বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশ মানছেনা মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩৮৩০ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিনিধি, মুন্সিগঞ্জ : সরকারি বিধি ও নিয়ম হল একই অফিসে একজন কর্মকর্তা-কর্মচারী তিন বছরের অধিক দায়িত্বরত থাকতে পারবেন না।

কোন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় দায়িত্বরত থাকলেও সেটি আমলযোগ্য এবং কোন ব্যক্তিকে পানিশমেন্ট স্বরূপ তিন বছরের বেশি রাখলেও সেটি ধর্তব্য।

সরকারি আমলাগণ নিজেদের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে যখন উন্নাসিক হন এবং তারা যখন সরকারি আইন না মানেন এবং নিজেদের প্রভুত্ব কর্মচারীদের উপর কায়েম করেন তার পরিণতি খুবই ভয়াবহ হয়ে থাকে অথচ তা একজন কর্মচারীর পক্ষে প্রকাশযোগ্য নয়।

এমনই ঘটনা ঘটেছে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনে।

৯ বছর ধরে প্রেষণে ভিপি সেলে দায়িত্বরত রাখা হয়েছে বিলকিস আক্তার নামে একজন হেড একাউন্টেন্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর কে।
চাকরিতে প্রবেশের সময় উপজেলা ভূমি অফিসে হেড একাউন্টেন্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে যোগদান এবং বেতনাদির বিধান থাকলেও ফ্যাসিস্টদের নজরে পড়ে আওয়ামী লীগ আমলে এ ক্ষুদ্র কর্মচারীকে পানিশমেন্টস্বরূপ জেলার ভিপি সেলে পদায়ন করে পাঠানো হয়।
দীর্ঘ বছর একই পদে এবং একই শাখায় তিনি দায়িত্বরত আছেন। আশা করেছিলেন সরকার পরিবর্তন ঘটলে তার মর্যাদার পদায়ন হবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও একইভাবে তাকে ফ্যাসিজম মেনে দায়িত্বরত রাখা হয়।
সে সময় দায়িত্বরত জেলা প্রশাসক নজর দেননি এবং এ কর্মচারীর আবেদন গ্রহণ করেন নি।
এরপর বর্তমান জেলা প্রশাসক পদায়নের মধ্য দিয়ে নতুন ভাবে এ কর্মচারী তার নিদারুণ অসহায়ত্বের কথা জানান।
মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ২৭ তম বিসিএস এডমিন অফিসার নূর মহল আশরাফী তিনি এ কর্মচারীর কথা দীর্ঘ এক বছরেও কর্ণপাত করেননি।
বিষয়টি পদ্মা টিভি ২৪ এ নজরে আসে এবং প্রতিবেদনের পর বিভাগীয় কমিশনার ২০ তম বিসিএস অ্যাডমিন ক্যাডার ও বাংলাদেশ এডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশন -বাছা এর যুগ্ম মহাসচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব জনাব মনিরুজ্জামান মিঞা মহোদয়ের কাছে বলা হলে তিনি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করার কথা পদ্মা টিভি২৪ কে জানান।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার এক মাস পূর্বে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসন সরজমিনে ঘুরে অসংখ্য অসংগতির বিষয়গুলি নিয়ে জেলা প্রশাসক কে আদেশ মোতাবেক এ কর্মচারীকে অন্যত্র পদায়নের ব্যাপারে বললেও তিনি রাজি নন এবং বিভাগীয় কমিশনার কেন এ কর্মচারীকে অন্যত্র পদায়নের ব্যাপারে বললেন তাতে জেলা প্রশাসক ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

গণমাধ্যমে বঞ্চিত ও নিগৃহীত কর্মচারীর মানবিক বিষয় নিয়ে রিপোর্ট করাকে তদবির আখ্যা দিয়ে ট্যাগ লাগানো হচ্ছে এ নারী কর্মচারীকে।

কোনটি মানবিক প্রতিবেদন এবং কোনটি তদবির প্রতিবেদন তা দেশবাসী জানলেও মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসন তা জানতেও বুঝতে নারাজ।

বিভাগীয় কমিশনার এর নির্দেশ একমাস পেরিয়ে গেলেও অধ্যবধি ভিপি সেলের এ কর্মচারীকে অন্যত্র পদায়ন করা হয়নি।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত প্রশাসক রাজস্ব ৩৪ তম বিসিএস এডমিন অফিসার জনাব মাহমুদুর রহমান খন্দকার এর নিকট পদ্মা টিভি টোয়েন্টিফোর কর্তৃপক্ষ আলোচনা করলে তিনি জানান যে, বিলকিস আক্তার এর পদায়নের ব্যাপারটি আমাদের নোটে আছে।
কেন অন্যত্র পদায়ন করা হচ্ছে না বা পদায়নের কি সমস্যা রয়েছে তা অপ্রকাশযোগ্যই থেকে যাচ্ছে।

একজন জেলা প্রশাসক সরকারি আইন না মানলেও বা কোন মানবিকতা না দেখালেও সেটি কোন সমস্যা নয় এমন ধৃষ্টতা এই কর্মচারীর ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসন বিশেষ ইশারায় পরিচালিত হয় এবং ফ্যাসিস্ট আমলে যাদেরকে টার্গেট করা হয়েছিল তারা যেন টার্গেটের বাইরে যেতে না পারে এমনটি বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও দেখা যাচ্ছে। জেলা প্রশাসকগণ একই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছেন।

এ ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহের ভিত্তিতে জানা যায়, জেলা প্রশাসনে কর্মরত কর্মচারীগণ দীর্ঘ বছর আওয়ামী আমলের সাথে সম্পর্কিত থেকে চাকরি করার কারণে এবং অনেকেই আওয়ামী লীগ আমলে চাকুরীতে যোগদান করার জন্য ও ফ্যাসিস্ট নীতির চর্চায় থাকার ধারাবাহিকতা হওয়ায় মূলত পরিবর্তিত সরকারের আমলে বিসিএস অফিসারদেরকে পরিবর্তন করলেও সুশাসনে কোন ভূমিকা রাখছে না।

একাধিক সূত্র এর চাওয়া যে, জেলা প্রশাসনের সকল কর্মচারীকে একযোগে পরিবর্তন ঘটালেই মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনে সুশাসনের সুবাতাস প্রবাহিত হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2026
Design By Raytahost