আবদুল্লাহ জিয়া, ঢাকা : দুটি নতুন বিভাগ অনুমোদন হলে দেশে বিভাগের সংখ্যা দাঁড়াবে ১০।
বর্তমানে আটটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব
পদমর্যাদার আটজনকে বিভাগীয় কমিশনার করে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোখতার আহমেদ ১৭ তম বিসিএস অফিসার হিসেবে দায়িত্ব রত আছেন।
বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশন এর মহাসচিব সারাফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ঢাকা, মোঃ শহিদুল ইসলাম রংপুর, ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন চট্টগ্রাম, আ.ন.ম বজলুর রহমান রাজশাহী, মোঃ রেজা-উন-নাবি
সিলেট, মিজ ফারাহ সাম্মি ময়মনসিংহ এবং মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্বরত যারা প্রত্যেকেই ১৮তম বিসিএস এডমিন ক্যাডারের অফিসার।
নতুন বিভাগ হিসেবে অনুমোদিত হলে কুমিল্লা ও ফরিদপুরের বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দুজনকে দায়িত্ব দেয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হবে। অথচ অতিরিক্ত সচিব পদে প্রমোশন না দেওয়ায় বিভাগীয় কমিশনার হওয়ার জায়গার শূন্যতা নিয়েই নতুন দুটি বিভাগ যাত্রা শুরু করবে।
২০২৫ এ ১২০ অধিক অতিরিক্ত সচিব পদ ফাঁকা নিয়ে নতুন বছর শুরু করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
চলতি বছরের ২০ দিনে একাধিক অতিরিক্ত সচিব পিআরএল এ চলে যাওয়ায় অতিরিক্ত সচিব পদ এখন ১৪০ অধিক ফাঁকা রয়েছে।
ব্যাচ হিসেবে প্রোমোশন দিলে ২০২৫ সালের মার্চ মাসেই ২০ তম ব্যাচকে অতিরিক্ত সচিব প্রমোশন দেয়ার প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা ছিল।
আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় মেয়াদে ১৯৯৬ সালের সরকারের শেষ সময়ে বিসিএস ২০ তম ব্যাচ চাকরি শুরু করে।
২০০১ সালের ১ অক্টোবর বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর ২০ তম ব্যাচ পুরো পাঁচ বছর মেয়াদেই বিএনপি জামায়াতের নেতৃত্বে প্রশাসনের দায়িত্বশীল অফিসার হিসেবে চাকুরি করে।
সূত্র বলছে, ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগের শেষ সময়ের ক্যাডার প্রাপ্ত ২০ তম ব্যাচ কে ফ্যাসিস্ট আমলের নিয়োগকৃত অফিসার হিসেবে ট্যাগ লাগিয়ে প্রোমোশন বঞ্চিত রাখা হয়েছে।
জনপ্রশাসন সূত্র বলছে, যদি ২০ তম ব্যাচকে যথাসময়ে প্রমোশন দিয়ে দেয়া হতো তাহলে এখন ২১ ব্যাচ কে প্রোমোশনের জন্য এসএসবি হয়ে যেত এবং তারা যথারীতি ২০২৬ সালের প্রথম পর্যায়েই প্রমোশন পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হতেন।
২৪ এর জুলাই পরবর্তী ৩৬ জুলাই এর সরকারকে পরিচালনা করতে প্রধানত দায়িত্বপ্রাপ্ত হন ৮২ নিয়মিত ও ৮২ স্পেশাল ব্যাচ এর অফিসারগণ।
তারা নিজ ব্যাচের একাধিক অফিসার কে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করিয়ে ও ৫০ অধিক অফিসার কে ভূতাপেক্ষ সচিব করিয়ে সুবিধা নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ডঃ মোহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে নানা জটিলতায় রেখে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে এক্সিট হবার পথে এগোচ্ছেন।
১৪০ টি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর কে অচল করে রেখে তিনটি ব্যাচের প্রমোশনের ভাগ্য বঞ্চিত করে তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে যত প্রশ্নের মুখোমুখি করে রেখে যাচ্ছেন তার সুরাহা করতে কয়েক দশক সময় লেগে যাবে।
কেননা ২০তম ব্যাচকে ট্যাগ লাগালে আওয়ামী লীগের শেষ সময়ের সাড়ে ১৫ বছরের আমলে ২৮ তম ব্যাচ থেকে শুরু করে ৪৫ তম ব্যাচ পর্যন্ত সকল ব্যাচকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে যাচ্ছে এসএসবির মূল ভূমিকায় থাকা ৮২ নিয়মিত ও ৮২ স্পেশাল ব্যাচের অফিসারগণ ।
২১ তম ব্যাচের একাধিক অফিসারের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পদ্মা টিভি টোয়েন্টিফোরকে যা জানানো হয়েছে তার সারমর্ম হল,
অবিলম্বে প্রমোশনের জন্য লাইনাপে থাকা ২০ তম ব্যাচ কে প্রমোশন দিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা দরকার তাহলে আমাদেরও প্রমোশনের পথ সুগম হবে এবং আমাদের পরে ২২ তম ব্যাচও প্রমোশন যথারীতি এবং যথা নিয়মে যথাসময়ে পাবে।
তারা আরও বলেন, আমরা চাই না কোন ব্যাচকে কোন দলীয় আদর্শের ট্যাগে দায়ী করা হোক।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি ২০ তম ব্যাচকে ট্যাগ দিয়ে প্রমোশন বঞ্চিত রাখে তাহলে পরবর্তী সরকার অন্যান্য ব্যাচকে ট্যাগ দিবে যা সুষ্ঠু প্রশাসনের জন্য কোন অবস্থাতেই মঙ্গল বয়ে আনবে না।
আমরা যারা পড়াশোনা করে চাকুরিতে আসি তারা সরকারের আদেশ নিষেধ পালন করেই চাকরি করে থাকি।
গণতান্ত্রিক সরকার কোন মতাদর্শের হবে তা দেশের জনগণ ভোটাধিকারের মাধ্যম দিয়ে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। আমরা সরকারি আদেশ পালনকারী মাত্র।
সরকার আসবে সরকার যাবে আমাদেরকে কিন্তু সকল সরকারের সাথেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সুতরাং ট্যাগমুক্ত প্রশাসন আমরা কামনা করি।
আমরা যারা সিনিয়র ব্যাচের অফিসার রয়েছি আমরা নিজেদের মধ্যে যদি ভেদ বিভেদ সৃষ্টি করে থাকি তাহলে আমাদের জুনিয়র অফিসাররা যারা পরবর্তীতে চাকুরিতে এসেছে তাদের সামনে আমরা ভালো উদাহরণ রেখে যেতে পারব না।
সুতরাং অবিলম্বে ২০ তম ব্যাচ এর যারা যোগ্য তাদেরকে প্রমোশন দিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার আহ্বান জানাচ্ছি। এতে সুশাসন ফিরে আসবে এবং রাষ্ট্র পূর্ণ গতিতে জনসেবা দিতে পারবে আর বঞ্চিতরা পরবর্তীতে নিয়ম তান্ত্রিকভাবেই প্রোমোশন পাওয়ার সুযোগ পাবে।
– লেখক, রাজনৈতিক, আমলাতান্ত্রিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষক।
– হেড অফ নিউজ, পদ্মা টিভি ২৪ লিমিটেড।
– প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট, বৈষম্য বিরোধী প্রেসক্লাব-এ পি সি।
– প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল লেবার পার্টি-এনএলপি।