২৭৬ জন ২০ তম ব্যাচের অফিসারের মধ্যে ৪০ ভাগ অফিসার কে প্রোমোশন দেয়া হয়েছে। বাকি ৬০ ভাগ অফিসার কেন প্রমোশন পাননি তার কারণ অফিসাররা জানতে পারেননি।
যে প্রোমোশনের জন্য এত সময় নেয়া হয়েছে, যে প্রোমোশনের জন্য এত উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ বাড়ানো হয়েছে তা কি নীতির ভিত্তিতে করা হয়েছে নাকি উৎকোচের ভিত্তিতে করা হয়েছে বা যাদের প্রমোশন দেয়া হয়নি তাদের কি কারণে অবহেলা করা হচ্ছে,তাদেরকে কেন বঞ্চিত করা হয়েছে তার কোন সুনির্ধারিত কারণ কর্তৃপক্ষ না দর্শীয়েই দীর্ঘ ১৮ মাস পর অতিরিক্ত সচিব প্রমোশন হিসেবে ২০তম ব্যাচের ১২৪ জন অফিসার কে যুগ্ম সচিব হতে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।
প্রমোশন নিয়ে কেন এত প্রহসন তা নিয়ে চলছে নানামুখী বঞ্চিতদের আলোচনা ও ভাবনা। তাদের হৃদয়ে যে ঝড় উঠেছে তার ছোট্ট একটি লিখনী পদ্মা টিভি ২৪ লিমিটেড এর কাছে এসেছে।
পাঠকদের জন্য হুবহু তা প্রকাশ করা হলো:
ফাঁসির আসামীরও জানার সুযোগ থাকে তার অপরাধ কী। চাকরিতে পদোন্নতি বঞ্চিতরাই কেবল জানতে পারেন না কী কারনে তিনি প্রাপ্যতা হারালেন। এতো ত্যাগ আর রক্তাক্ত পথ পেরোনার পরে এটুকু সংস্কার কী করা যেতো না! পুলসিরাত পার হওয়াও কি এর চাইতে কঠিন!
মন বলে, না। কারন একই সাথে যিনি রাহমান আর রাহিম তিনি কিভাবে এতো নির্দয় হবেন! নিতান্ত খারাপ মানুষটিও বন্চিত হয় না বিনা তীতিক্ষায় পাওয়া তাঁর আলো- হাওয়া- জল থেকে।
অথচ বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ফসল হিসাবে পাওয়া আজকের বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রের স্বচ্ছতা আর ন্যায়পরায়নতার মাপকাঠি বা প্রক্রিয়া যে কেমন সেটা এই বোধবুদ্ধিহীন নগণ্য কর্মচারীর মাথায় আসে না। না তেল না ধাক্কা — সব কিছুতেই অক্ষম। নিশ্চিত ভাবনা, জুলাই- ঝঞ্জার পরে যে ঝান্ডা ওড়ানো হয়েছে তাতে ওসব আর লাগবে না।
সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো যদি নাই বলতে পারলাম আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ফাইয়াজ, আবরার, ওয়াসিম, ইয়ামিনরা কিসের জন্য প্রানটা দিলো রে!!
এখনও কানে বাজে শ্লোগানগুলো; চাইতে এলাম অধিকার হয়ে গেলাম রাজাকার, এক দুই তিন চার,দেশটা এখন জনতার, বুকের ভিতর দারুন ঝড়/ বুক পেতেছি গুলি কর। আসলেই বুকের ভেতর দারুন ঝড়। তবুও ভালো থাকুক প্রিয় বাংলাদেশ, স্বচ্ছতার কাঁচে শুভ্র ফুলের সুবাসে হেসে উঠুক আমাদের বুরোক্র্যাসি।
জনসেবাই যাদের ব্রত সেই কাজের জন্য নিজেকে তো আগে সুস্থ থাকতে হবে, উজ্জীবিত মানসিকতা ধারন করতে হবে। বিষন্নতার আঁধারে ঢেকে অন্যের মুখে কি হাসি ফোটানো যায়?