বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা. ২০২৪ সালের ৩৬ জুলাই আওয়ামী লীগ পতনের পর সবচাইতে বেশি সুবিধা ভোগী ব্যাচের নাম ৮২ নিয়মিত ও ৮২ স্পেশাল ব্যাচ।
৩৬ জুলাই সুবিধাভোগী ও পৃষ্ঠপোষক খ্যাত ৮২ স্পেশাল ও ৮২ নিয়মিত ব্যাচের অফিসরগণ ভূতাপেক্ষ প্রোমোশন দিয়ে নিজ ব্যাচের ৮০ জন অতিরিক্ত সচিব এর মধ্যে ৫০ জনকে ভূতাপেক্ষ সচিব করে অটো প্রমোশন তথা ভূতাপেক্ষ প্রমোশন দেবার রেকর্ড গড়েছে।
তাছাড়াও আওয়ামী দোসর এনসিপি ও জামাতি পছন্দের ব্যক্তিদেরকে সচিব ও অতিরিক্ত সচিব হিসেবে বিভিন্ন দপ্তরে বসিয়েছে ৮২ ব্যাচ নেতৃত্বাধীন জনপ্রশাসন।
একই ফরমেটে ৩০ তম ব্যাচকে উপসচিব, ২৪ তম ব্যাচকে যুগ্মসচিব প্রমোশন করলেও ২০ তম ব্যাঢকে অতিরিক্ত সচিব প্রমোশন আজও দেয় নি।
জুনিয়র ব্যাঢকে যুগ্মসচিব হিসেবে প্রমোশন দেওয়ার পরে সিনিয়র যুগ্ম সচিব ব্যাচ হিসেবে অতিরিক্ত সচিব প্রমোশন পাওয়াটা যৌক্তিক ও নৈতিক গঠনমূলক দাবি হওয়া সত্ত্বেও ২০ তম ব্যাচের অফিসারগণ গণমাধ্যমে তা প্রকাশ করতে পারছেন না চাকরিবিধির কারণে।
নির্ধারিত সময় প্রমোশন না পেলে অনেক ২০ ব্যাচের অফিসারগণ তারা প্রমোশন বঞ্চিত হয়ে চাকরির বয়সসীমা পার হবার কারণে পিআরএল তথা অবসরে চলে যাবেন বিধায় উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগের মধ্য দিয়ে কর্মে যুক্ত আছেন।
৮২ ব্যাচের নেতৃত্বাধীন জনপ্রশাসনের সেটআপ থেকে সবচেয়ে ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাচের নাম এখন ২০তম ব্যাচ।
২০ তম ব্যাচের প্রমোশন শুরু হওয়াটা যদি যথাসময়ে হত তাহলে প্রথম মেয়াদে প্রমোশন বঞ্চিত অনেক অফিসার দ্বিতীয় ধাপে প্রমোশন পাবার সুযোগ পেতেন এবং অতিরিক্ত সচিবের পরে সচিব হবারও সুযোগ পেতেন কেননা সচিব হবার জন্য চাকরির পর্যাপ্ত বয়স থাকতো ।
প্রমোশনের সেশনজটের কবলে পড়ে অনেকেই ভাগ্যহত হয়ে অবসরে চলে যেতে বাধ্য হবেন।
২৪ এর জুলাই এর উপকারভোগী হিসেবে সবচাইতে যে ব্যাচ প্রশাসনকে শোষণ ও শাসন করেছে তা হচ্ছে ৮২ ব্যাচ।
জনপ্রশাসন সূত্রে, জানা গেছে যে ৮২ ব্যাচের নেতৃত্বাধীন ভূতাপেক্ষ ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া অফিসারগণ ইচ্ছেমতো তাদের মতের ও পথের এবং উৎকোচের মাধ্যমে পদায়ন ও প্রমোশন করেছেন।
প্রশাসনে অস্থিরতা তৈরি করা এবং অতিরিক্ত সচিব পদের ১২০টি পদ ফাঁকা সত্বেও প্রমোশন বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে বিগত এক বছর যাবত ২০ তম বিসিএস এডমিন ক্যাডারের অফিসারদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ২০ তম ব্যাচের অফিসারগণ নানা রকম অসংগতির কথা পদ্মা টিভি ২৪ কে তুলে ধরেন।
২০ তম ব্যাচ কে অতিরিক্ত সচিব করা হবে এমন গুঞ্জন বিগত এক বছর ধরে চললেও আজ অবধি তা সুরাহা করেননি ৮২ ব্যাচের নেতৃত্বাধীন জনপ্রশাসন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
অতিরিক্ত সচিব প্রমোশন ঝুলিয়ে রেখে জনপ্রশাসনের মাধ্যমে যে প্রশাসনিক অচলাবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে তা দূরীকরণে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ মহল নাম না প্রকাশ করার শর্তে অভিমত ব্যক্ত করেন।
আর এই কারণেই অনেক অফিসার জনাব তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক বিশেষ হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন যেন ২০ তম ব্যাচকে অবিলম্বে অতিরিক্ত সচিব প্রমোশন দেয়া হয়।
-আব্দুল্লাহ, জিয়া।