সাবেক প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে তার বিরোধী রাজনীতিবিদ এর প্রতি বিতশ্রদ্ধ ও আক্রমণাত্মক ছিলেন তাতে শেখ হাসিনা সরকারে থাকা অবস্থায় ম্যাডাম খালেদা জিয়া যদি বড় পরলোকগমন করতেন তাহলে তাকে নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক ও কুরুচির মন্তব্য শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে করা হতো।
এমনকি শেখ হাসিনা ম্যাডাম খালেদা জিয়ার দাফন তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চন্দ্রিমা উদ্যানে অবস্থিত কবরের পাশে দাফন করার সুযোগ কখনোই দিতেন না। এমন চিন্তা-বিএনপি কোন অবস্থাতেই করতে পারত না। বাধ্য হয়ে এই বিকল্প জায়গায় দাফনের প্রস্তুতি তখন নিতে হতো।
যেখানে আওয়ামী লীগ আমলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর সংসদ ভবন এলাকা থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করেছিল সেখানে বেগম খালেদা জিয়ার দাফন কোন অবস্থাতেই সংসদ ভবনের মধ্যে অবস্থিত শহীদ জিয়ার পাশে হবার সুযোগ ছিল না।
এক্ষেত্রে মহান আল্লাহ সুবহানাতায়ালার বিশেষ রহমত আছে এ পরিবারের প্রতি তা প্রমাণ হল আরো একবার।
আর তারেক রহমানও কষ্টের মাঝে অন্যতম সৌভাগ্যবান একজন নেতা হিসাবে এদেশের বুকে দীর্ঘ সময় একচ্ছত্র নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ এদেশবাসীর পক্ষ থেকে পাবেন তা শুধুমাত্র ম্যাডাম খালেদা জিয়ার বর্ণনাঢ্য রাজনীতির কারণে। কেন তারেক রহমান সৌভাগ্যবান বললাম অবাক হলেন? আওয়ামী লীগ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বলেছেন যে বিএনপিতে পুরুষ নেতৃত্ব দেয়ার কেউ নেই বলেই ম্যাডাম জিয়ার নেতৃত্ব গ্রহণ করে। আরো একটি বিষয় যে মা এবং ছেলের মাঝে দ্বন্দ্বের রাজনীতি হতো অর্থাৎ ম্যাডাম খালেদা জিয়ার রাজনীতির বিরুদ্ধে তারেক রহমানের রাজনীতি দাঁড়ানোর একটি ন্যারেটিভ পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।
আর এ সঙ্গত কারণেই দীর্ঘ ৪৪ বছরের নারী নেতৃত্বের জায়গা থেকেও বিএনপি এখন পুরুষ নেতৃত্বেও দাঁড়িয়ে গেল।
তাছাড়া তারেক রহমানের নামের সামনে থেকে এখন ভারপ্রাপ্ত শব্দটি উঠে গেল অনন্তকালের জন্য।
এক নারী নেতৃত্বের কলঙ্কের অবসানে আর এক নারী নেতৃত্বের মর্যাদার অবসান।
সবই মহান স্রষ্টার লীলাখেলা এবং তারই অনুগ্রহ।